পরীক্ষা

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: কেন্দ্রসচিবদের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ

কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ বা অষ্টম শ্রেণির সরকারি বৃত্তি পরীক্ষা। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রসচিবদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ০১ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশনায় ২৪ টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ সময়সূচি ও মানবণ্টন

সকল বোর্ডের ২০২৫ সালের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা বা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন ১০.০০টা থেকে শুরু হবে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইতপূর্বে প্রকাশিত সিলেবাস অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচির ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

আরও পড়ুনঃ রাজস্ব বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি ও সংশোধনের নির্দেশনা ২০২৫

বিষয়ভিত্তিক নম্বর ও সময় বিভাজন:

বাংলা, ইংরেজি ও গণিত: প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান ১০০ এবং পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা।

বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: দুটি বিষয় একত্রে পরীক্ষা হবে। বিজ্ঞান (৫০ নম্বর) ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০ নম্বর)। প্রতিটির জন্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট করে মোট ৩ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে ।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা

প্রায়ই শোনা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও নানা ধরণের অনিয়ম এর খবর। তাই এবার বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে এবার প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার ঘোষণা দিয়েছে।

যাচাইকরণ: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ০৭ (সাত) দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে রাখা প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সাথে বিবরণী তালিকা ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রসচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে।

পরিবহন: বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষার দিন ট্রেজারি থেকে পুলিশ পাহারায় প্রশ্নপত্রের প্যাকেট (সিকিউরিটি খাম) কেন্দ্রে আনতে হবে।

সেট কোড নির্ধারণ: পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ব্যবহারের জন্য এসএমএস-এর মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠানো হবে। এসএমএস পাওয়ার পরই নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম কোনোভাবেই খোলা যাবে না এবং তা অক্ষত অবস্থায় উপজেলা কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে শিক্ষকদের জন্য জরুরি প্রজ্ঞাপন

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

১. জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বে, অর্থাৎ সকাল ৯:৩০টার মধ্যে অবশ্যই পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী বিশেষ কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ের পর আসলে, কেন্দ্রসচিব বিশেষ বিবেচনায় তার রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। এই রেজিস্ট্রার খাতাটি পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে জমা দিতে হবে।

২. পরীক্ষার্থীদের আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৩. পরীক্ষায় শুধুমাত্র বোর্ডের অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও পরিদর্শকদের দায়িত্ব

১. মোবাইল ফোন: কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্রসচিব ছবি তোলা যায় না, এমন সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

২. কক্ষ পরিদর্শক: প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ১ জন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন । তবে প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে ২ জন পরিদর্শক থাকা বাধ্যতামূলক।

৩. কেন্দ্রের কার্যক্রম: পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে । এবং পরীক্ষা শুরুর পূর্বে কেন্দ্রের বাহিরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হ্যান্ড মাইক দিয়ে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা যাবে।

আরও পড়ুনঃ সমন্বিত উপবৃত্তি ফরম: ৬ষ্ঠ ও ৯ম শ্রেণির উপবৃত্তির জন্য আবেদন ফরম

প্রবেশপত্র ও উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা

কেন্দ্রসচিবদের ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। প্রিন্ট করার পর তা দ্রুততম সময়ে প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধানের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ড থেকে সংশোধন করে নিতে হবে ।

পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র প্যাকেট করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিষয় অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র প্যাকেট করতে হবে এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা প্যাকেট তৈরি করতে হবে । ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট সম্পূর্ণ আলাদাভাবে করতে হবে ।

এই সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির সকল কেন্দ্রসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন ।

কেন্দ্রসচিবদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ পরিচালনা সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিটি নিচের ছবিতে দেওয়া হলো। এছাড়াও আপনি চাইলে এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫: কেন্দ্রসচিবদের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ

এটি ছাড়াও আরও কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে আমাদের এই পোস্টে কমেন্ট করুন, ফেসবুক পেইজ বাংলা নোটিশ এবং ফেসবুক গ্রুপ বাংলা নোটিশ যোগ দিয়ে প্রশ্ন করুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা নোটিশ ডট কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২০ নভেম্বর, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। বাবা আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং মা রহিমা বেগম। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল আরিয়ান বয়স ৫ বছর। মেয়ে ফাবিহা জান্নাত বয়স ১ বছর। আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া এর শিক্ষাজীবন আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটি ঢাকা থেকে বিপিএড সম্পন্ন করেন। আজিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ লাকসাম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কিছুদিন ক্লাস করার পর। পারিবারিক কারণে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজ এ কিছুদিন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করার পর ভালো না লাগায় পুনরায় ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি নানা রকম সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। কর্মজীবন কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি ২০১৯ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় কুয়েত পারি জমান। কিন্তু সেখানকার কাজের পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় পুনরায় আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে পূর্বের পদে কাজে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি স্বপ্ন গ্রাফিক্স এন্ড নেটওয়ার্ক নামে একটি মাল্টিমিডিয়া এবং প্রিন্টিং প্রেস প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারী সেই সাথে স্বপ্ন ইশকুল নামক একটি কম্পিউটার ট্রেণিং ইনস্টিটিউট এর মালিকানায় আছেন যেখানে তিনি নিজেই ক্লাস পরিচালনা করেন। লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্ম ছাত্র অবস্থায় তিনি লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্মের সাথে জড়িত আছেন। ২০১১ সালে রাইটার্স এসোসিয়েশন এর ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বন্ধু চিরন্তন প্রকাশিত হয়। এর পর তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ