নিউজ

অভাগীর স্বর্গ গল্পের মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করার উপায়

তোমাদের জন্য ৯ম শ্রেণি ৪র্থ সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট ২০২১ বাংলা, রসায়ন, ভূগোল ও ব্যবসায় উদ্যোগ এর মধ্যে বাংলা বিষয় থেকে অভাগীর স্বর্গ গল্প থেকে একটি নির্ধারিত কাজ দেওয়া হয়েছে। তোমাদেরকে অভাগীর স্বর্গ গল্পের মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করার উপায় নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখতে হবে। 

তোমাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নবম শ্রেণীর অভাগীর স্বর্গ গল্প থেকে তোমাদের জন্য মানবিক সমাজ গঠনে যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তার উপায় নিয়ে একটি নমুনা প্রতিবেদন দেয়া হলো। 

৯ম শ্রেণির ৪র্থ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট বাংলা

২০২০ শিক্ষাবর্ষের মত ২০২১ শিক্ষাবর্ষে ও শিখন শেখানো কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চতুর্থ সপ্তাহের বাংলা পাঠ্যবই থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে যথা সময়ে চতুর্থ সপ্তাহের বাংলা বিষয়ের এ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষকের নিকট জমা দিতে হবে। 

৯ম শ্রেণির ৪র্থ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট বাংলা

বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ

অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনে যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তা কীভাবে দূর করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? যৌক্তিক মত উপস্থাপন কর;

৯ম শ্রেণির ৪র্থ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট বাংলা উত্তর

তোমাদের সুবিধার্থে নবম শ্রেণীর বাংলাদেশের দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট অর্থাৎ চতুর্থ সপ্তাহের নির্ধারিত কাজ নিয়ে একটি নমুনা উত্তর প্রস্তুত করে দেয়া হলো। এটি অনুসরণ করে তোমরা নবম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বিষয়ে থেকে নেওয়া অভাগীর স্বর্গ গল্পের আলোকে মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা সমূহ এবং উত্তরণের উপায় সম্পর্কে জানতে পারবে। 

তোমার কোন ভাবেই এটিকে হুবহু কপি করবে না তবে এর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের মেধা মনন কে কাজে লাগিয়ে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে।

“অভাগীর স্বর্গ” গল্পে মানবিক সমাজ গঠনে যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তা কীভাবে দূর করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? যৌক্তিক মত উপস্থাপন কর।

৯ম শ্রেণি ৪র্থ এ্যাসাইনমেন্ট বাংলা নমূনা উত্তর

অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ

মানবিকতা বলতে বোঝায় মানুষের মূল্যবোধ। মানুষের বিচার বুদ্ধি- যে বুদ্ধি আমরা অর্জন করি বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানের মাধ্যমে। যেমন- ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইত্যাদি। মানবিকতার মূলমন্ত্র হলো মানুষের কল্যাণ, জাতির কল্যাণ, সমাজের কল্যাণ।

মোটকথা মানুষের ভালো, মানুষের জন্য ভালো কিছু করা , মানুষের উন্নতি সাধন করাই মানবিকতা। কিন্তু শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “অভাগীর স্বর্গ” গল্পে মানবিকতা বলতে আমরা যা বুঝি তার বিন্দুমাত্র মিল খুঁজে পাই নি।

তাইতো মানবিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়েছে “অভাগীর স্বর্গ” গল্প । কারণ “অভাগীর স্বর্গ” গল্পে রয়েছে মানবিক সমাজ গঠনের নানবিধ প্রতিবন্ধকতা। যেমনঃ

শ্রেণি বৈষম্যঃ “অভাগীর স্বর্গ”  গল্পে আমরা দেখতে পাই যে, তখনকার সমাজ ব্যবস্থার মাঝে শ্রেণি বৈষম্য ছিল প্রকট। এই শ্রেণি বৈষম্য এর মাঝে ছিল ধনী-গরীব ভেদাভেদ , উঁচু জাত-নিচু জাতের ভেদাভেদ। এই গল্পে আমরা দেখতে পেরেছি সমাজের উচু জাতের লোকদের দ্বারা নিচু জাতের অর্থাৎ গরীব অসহায়দের প্রতি বৈষম্য।

ন্যায়বিচারের অভাব: অভাগীর বেল গাছ লাগানোর ঘটনা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, তখনকার সমাজ ব্যবস্থায় কতটা ন্যায়বিচারের অভাব ছিল।

শাসকেকের শোষণঃ “অভাগীর স্বর্গ” গল্পের জমিদার এর চরিত্র থেকে একথা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে শাসক শ্রেণির লোকদের শোষণ একটি মানবিক সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় বলে আমি মনে করি।

সামাজিক মর্যাদাঃ একটা মানুষ যখন সমাজে তার নিজ পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে না পারে অর্থাৎ সামাজিক মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে না পারে, তখনই সমাজের মাঝে অমানবিক আচার-আচরণ প্রকট হয়ে দেখা দেয়, যা মানবিক সমাজ গঠনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

বিবিধঃ সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে , তেমনি রয়েছে ধর্মে-ধর্মে , সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে এবং জাত-পাতের প্রকট পার্থক্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব পার্থক্য অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও হীন স্বার্থবুদ্ধিপ্রসূত। এতে করে সমাজে প্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। সমাজজীবনে সৃষ্টি হয় নানা দুঃখজনক ঘটনার। এমনকি এতে মানবতার বিপর্যয়ও ঘটে থাকে।

প্রতিবন্ধকতা জয় করার উপায়

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অভাগীর স্বর্গ গল্পের উঠে আসা মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতাসমূহ উত্তরণের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে। 

১. যথোপযুক্ত শাসনব্যবস্থাঃ একটি সুন্দর মানবিক সমাজ গঠনে আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকরী শাসনব্যবস্থা চালু থাকলে শুধু সমাজ নয় বরং সারা পৃথিবীকে মানবিক করে তোলা সম্ভব।

২. সুষম বিচার ব্যবস্থাঃ যে সমাজে বিচার ব্যবস্থা সুষম অর্থ্যাৎ ন্যয়বিচার রয়েছে, সে সমাজকে আমরা মানবিক বলতে পারি। একটা সমাজে যদি অন্যায় অপরাধের সঠিক বিচার হয় , বিচার ব্যবস্থা যদি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়, তখনই কেবল সমাজের বসবাসরত মানুষ যারা রয়েছে , তারা নিজেদেরকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভাবতে পারবে। আর তাতেই মানবিক সমাজ গঠনের পথটা সুগম হয়ে যাবে।

৩. শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাঃ সমাজে যারা শাসক গোষ্ঠী রয়েছে অর্থাৎ যারা সমাজে নীতি নির্ধারক তারা যদি সমাজের মানুষের উপকারে তাদের শাসন করে , তবে সে সমাজ মানবিক হতে বাধ্য। শাসনের নামে যেন শোষণ না হয়। শোষিত মানুষের মাঝে সবসময় ক্ষোভ বিরাজ করে।

৪. ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে স্বাধীনতাঃ আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সমাজে যাতে সবাই নিজের মত করে বাঁচতে পারে, নিজস্ব ধর্মীয় আচার আচরণ পালন করতে পারে, নিজের মতামত স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সামাজিক মূল্যবোধ চর্চাঃ সামাজিক মূল্যবোধ চর্চা করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে সামাজিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে।

৬. শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণঃ শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। এই ধরণের বৈষম্য অবশ্যই দূর করতে হবে, যদি আমরা একটি মানবিক সমাজ গঠন করতে চাই।

উপসংহারঃ উপরোক্ত বিষয় সমুহ যতগুলো গুণ যথোপযুক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গঠনে উত্থাপিত সমস্যা গুলো বা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীকরণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। এর মাধ্যমে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা এবং সামাজিকতা বিরাজমান থাকবে। 

বন্ধুরা এই ছিল তোমাদের নবম শ্রেণী চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের নমুনা উত্তর। এখানে অভাগীর স্বর্গ গল্পের উপস্থাপিত মানবিক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় সমূহ নিয়ে একটি আলোচনা দেওয়া হয়েছে। 

উত্তরদাতা: খাদিজাতুল স্বর্ণা, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ

নবম শ্রেণির ৪র্থ এ্যাসাইনমেন্ট এর অন্যান্য বিষয়ের উত্তর:

প্রতিসপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট এবং অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত যেকোন সহযোগিতা পেতে নিচের Download From PlayStore বাটনে ক্লিক করে বাংলা নোটিশ ডট কম এন্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করে নাও।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ