তথ্য ভান্ডারমাদ্রাসা অ্যাসাইনমেন্ট

একজন কৃষক ও একজন কৃষি বিজ্ঞানী এক নয়।

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,  আজ তোমাদের সামনে কৃষিবিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস নিয়ে আলোচনা করব।  আজকের আলোচনার চৌম্বক তথ্য একজন কৃষক ও একজন কৃষি বিজ্ঞানী এক নয়। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিনা বেগম ২০২০ সালে নিকলী উপজেলায় অনুষ্ঠিত ‘কৃষি মেলা’ দেখতে যান।

তিনি মেলায় প্রদর্শিত কৃষিজাত পণ্য, বিভিন্ন ফসলের নানা জাতের চারা ও গাছের উন্নত ফলন দেখে কৃষি কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিজের পৈত্রিক জমিতে কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করতে আগ্রহী হন ।

কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করতে রিনা বেগম অভিজ্ঞ কৃষক, কৃষি মেলা, কৃষি শিক্ষা, কৃষি গবেষণা, কৃষি তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎসগুলো কিভাবে কাজে লাগাবেন?

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর এর মাধ্যমে তোমার মতামত উপস্থাপন করো-

  • রিনা বেগম কৃষি মেলায় কি কি কৃষিজাত পণ্য দেখতে পেয়েছিলেন ?
  • তার কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কাদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারে?
  • কৃষি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা করতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখতে পারে?
  • একজন অভিজ্ঞ কৃষক কিভাবে রিনা বেগম কে সহায়তা করতে পারেন?
  • একজন কৃষক ও একজন কৃষি বিজ্ঞানী কে তুমি কিভাবে আলাদা করবে?

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের জীবনে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা কৃষি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর প্রায় সকল উপকরণ উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

এছাড়া অন্যান্য পণ্য ও সেবা ক্রয় এর অর্থও কৃষি যোগান দেয়।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য খাতের চাহিদাগুলো পূরণে আমাদের জীবনে কৃষি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। 

রিনা বেগম কৃষি মেলায় বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য দেখতে পেয়েছিলেন।

  • কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য একসাথে একমাত্র কৃষি মেলার মাধ্যমে দেখা সম্ভব। গ্রামের মতো শহরেও এ ধরনের মেলার আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
  • এ মেলায় এক নজরে নানা ধরনের ফসল দেখা সম্ভব হয়।এই মেলায় চারা, বীজ, সার, কৃষি প্রযুক্তি ইত্যাদি দেখানো ও বিক্রি করা হয়।
  • এ মেলায় কৃষি বিষয়ক নানা লিফলেট, পুস্তিকা,  বুলেটিন,  পত্রিকা প্রদর্শিত হয় এবং বিনামূল্যে  দর্শকদের দেয়া হয়। এতে কৃষি কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও উপস্থিত দর্শকগণ ও কৃষি কার্যক্রমে  উদ্বুদ্ধ হন।

 রিনা বেগম তার কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অনেকের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারে। 

  • অভিজ্ঞ কৃষক,  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা  কৃষি বিষয়ক তথ্য ও সেবা দিয়ে থাকেন। 

বাংলাদেশের ১৬ টি  কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আছে।

  • এছাড়াও প্রাইভেট কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট আছে। কারিগরি বোর্ডের একাডেমিক অধীনে থেকে ইনস্টিটিউটগুলো চার বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা প্রদান করে থাকে।
  • উচ্চতর কৃষি শিক্ষার জন্য বাংলাদেশে পাঁচটি সরকারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে । দুটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি অনুষদ চালু আছে।  বাংলাদেশে অনেকগুলো কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 
  • বেশিরভাগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানই  নির্দিষ্ট ফসলের উপর গবেষণা করে থাকে। যেমন-  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধানের উন্নত জাত ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে। 
  • বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাট উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট ইক্ষু উন্নয়নের জন্য যাবতীয় গবেষণা করে থাকে।  বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন ফসলের উপর গবেষণা করে। 
  • এর ফলে কৃষকেরা উন্নত মানের বীজ,  নতুন জাত,  রোগ ও এর প্রতিকার সহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন।  সকল কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে জনগণকে অবহিত করা হচ্ছে। কৃষি বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণা করতে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ভূমিকা রাখতে পারে।

একজন অভিজ্ঞ কৃষক রিনা বেগমকে সহায়তা করতে পারেন নানাভাবে। 

  • অভিজ্ঞ  কৃষক একজন স্থানীয় নেতা এবং একজন পরামর্শদাতা। 
  • তিনি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন ও নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। 
  • এছাড়া তিনি গণমাধ্যম থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। 
  • তিনি স্থানীয় তথ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। 
  • অভিজ্ঞ কৃষকেরা কৃষি  জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করেন। 
  • অতঃপর তিনি নিজ এলাকার কৃষকদের  কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দান করেন।
  • কৃষকেরা ফসল নিয়ে নানা সমস্যায় ভোগেন। যেমন-  ফসলের রোগ হওয়া,  কীটপতঙ্গ আক্রমণ করা,  বন্যা ও খরা দেখা দেওয়া ইত্যাদি। 
  • এসব প্রতিকূল অবস্থার  মোকাবিলা করার জন্য প্রাথমিকভাবে কৃষকেরা অভিজ্ঞ  কৃষকের দ্বারস্থ হয়ে থাকেন।
  • আর তিনিও আন্তরিকভাবে যতটুকু জানেন সে মোতাবেক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

একজন কৃষক ও একজন কৃষি বিজ্ঞানী এক নয়।

  • একজন কৃষক কেবল কৃষিকাজ করেন। 
  • কিন্তু তার ফসলের জন্য কোন উপাদান কি পরিমাণে লাগবে কিংবা সঠিক সময়ে  ফসলের সঠিক যত্ন  ইত্যাদি  সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে পারেন না। 
  • ফসলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য কারো  নিকট তাকে দ্বারস্থ হতে হয়। 
  • পক্ষান্তরে, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যিনি গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন, তিনি কৃষি বিজ্ঞানী।
  • তিনি একটি ফসল এর জীবনচক্র সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং তার নিকট কৃষি বিষয়ক নানা প্রকার তথ্য পুঞ্জিভূত থাকে। 
  • তারা নতুন ফসল ও প্রাণীর উন্নতজাত উৎপাদন ও সংরক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে দেশের কল্যাণ সাধন করছেন।

আরো দেখুন-

সকল স্তরের শিক্ষা সংক্রান্ত সঠিক তথ্য, সরকারি-বেসরকারি চাকুরি বিজ্ঞপ্তি, চাকুরির পরীক্ষা, এডমিট কার্ড,

পরীক্ষার রুটিন, সরকারি বেসরকারি বৃত্তি, উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য সবার

আগে পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজটি Follow করে রাখুন।

ইউটিউবে সর্বশেষ আপডেট পেতে বাংলা নোটিশ ডট কম এর ইউটিউব চ্যানেলটি Subscribe করে রাখুন।

আপনার প্রতিষ্ঠানের যেকোন বিজ্ঞপ্তি, খবর, নোটিশ ও জাতীয় রাজনৈতিক বিষয়ে লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা নোটিশ ডট কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২০ নভেম্বর, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। বাবা আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং মা রহিমা বেগম। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল আরিয়ান বয়স ৫ বছর। মেয়ে ফাবিহা জান্নাত বয়স ১ বছর। আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া এর শিক্ষাজীবন আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটি ঢাকা থেকে বিপিএড সম্পন্ন করেন। আজিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ লাকসাম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কিছুদিন ক্লাস করার পর। পারিবারিক কারণে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজ এ কিছুদিন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করার পর ভালো না লাগায় পুনরায় ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি নানা রকম সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। কর্মজীবন কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি ২০১৯ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় কুয়েত পারি জমান। কিন্তু সেখানকার কাজের পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় পুনরায় আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে পূর্বের পদে কাজে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি স্বপ্ন গ্রাফিক্স এন্ড নেটওয়ার্ক নামে একটি মাল্টিমিডিয়া এবং প্রিন্টিং প্রেস প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারী সেই সাথে স্বপ্ন ইশকুল নামক একটি কম্পিউটার ট্রেণিং ইনস্টিটিউট এর মালিকানায় আছেন যেখানে তিনি নিজেই ক্লাস পরিচালনা করেন। লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্ম ছাত্র অবস্থায় তিনি লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্মের সাথে জড়িত আছেন। ২০১১ সালে রাইটার্স এসোসিয়েশন এর ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বন্ধু চিরন্তন প্রকাশিত হয়। এর পর তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ