ব্যবসা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাকা বই হিসেবে খতিয়ান

এসএসসি ২০২১ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আশা করছি সকলে সুস্থ আছো। বরাবরের মতো আমরা তোমাদের অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কিত ধারণা দেওয়ার জন্য আজকের আর্টিকেলে এসএসসি ২০২১ সালের ৮ম সপ্তাহের হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্টের বাছাইকরা নমুনা সমাধান/ উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করবো। অ্যাসাইনমেন্টের শিরোনাম : ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাকা বই হিসেবে খতিয়ান।

এসএসসি ২০২১ অষ্টম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট

অ্যাসাইনমেন্ট:

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পাকা বই হিসেবে খতিয়ান সহায়ক তথ্য রুবাইয়্যাত ট্রেডার্সের এর ২০২০ সালের মে মাসের কতিপয় লেনদেন নিম্নরুপ:-

  • মে ৫ ধারে পণ্য ক্রয় ৪৫,০০০ টাকা।
  • মে-৮ পণ্য বিক্রয় ৫০,০০০ টাকা, যার ৬০% চেকে এবং ৪০% নগদে।
  • মে ১৩ ব্যবসায়ের জন্য চেক দ্বারা আলমারি ক্রয় ২৫,০০০ টাকা।
  • মে-১৫ মালিক কর্তৃক পণ্য উত্তোলন ৫,২০০ টাকা।
  • মে ১৮ দেনাদার থেকে প্রাপ্তি ৪,০০০ টাকা।
  • মে ৩০ পাওনাদারকে পরিশােধ ৮,৫০০ টাকা।

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

  • ক. খতিয়ানের ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা।
  • খ. খতিয়ান প্রস্তুত করে উদ্বৃত্ত্ব/জের নির্ণয় করা।
  • গ. খতিয়ানের ডেবিট ও ক্রেডিট উদ্বৃত্ত দ্বারা গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা।

খতিয়ান হচ্ছে একটি হিসাবনিকাশের পাকা বইতে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় লেনদেনগুলোর বিভন্ন প্রকার পক্ষসমূহকে পৃথক পৃথক শিরোনামের আওতায় শ্রেনীবদ্ধভাবে এবং সংক্ষিপ্তকারে লিপিবদ্ধ করা। এক কথায় খতিয়ান হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাবের সমষ্টিগত রুপ।

ক) খতিয়ানের ধারণাসহ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ-পূর্বক গুরুত্ব ব্যাখ্যাকরণ-

খতিয়ানের ধারণা :

প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির হিসাব যেমন –সম্পদ ,দায়, মালিকানা স্বত্ব,আয়—ব্যয় ও লাভ-ক্ষতির হিসাব সংরক্ষন করা হয়। এসব হিসাবসমূহকে এককথায় খতিয়ান বলা হয়। একটি চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায়, ও িমালিকানা স্বত্ব সম্পর্কিত হিসাবসমূহের সাধারনত প্রারম্ভিক ডেবিট বা ক্রেডিট জের থাকে । নির্দিষ্ট সময়কালে সম্পূন্ন লেনদেন সমূহের ফলাফল খতিয়ানের সংরক্ষিত হিসাবসমূহের যথাযথভাবে স্থানান্তর করা হয়। হিসাবকাল শেষে প্রতিটি হিসাবের জের নিরূপন করা হয় । এই প্রক্রিয়ায় একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উক্ত সময়কালের আয়-ব্যয়,লাভ-ক্ষতির পরিমাপ নিরূপন করা হয় এবং একটি নিদিষ্ট তারিখে তার সম্পদ দায় ও মালিকানা স্বত্ব এর পরিমাপ জানা যায়।

খতিয়ানের বৈশিষ্ট্য :

  • প্রতিটি হিসাবের শিরনাম প্রদান করা হয়।
  • খতিয়ান প্রস্তুতের T ছক বা চলমান জের ছক অনুসরন করা হয়।
  • প্রতিটি হিসাবের পৃথক পৃথক জের /উদ্ধত্ত নির্ণয় করা হয়।
  • খতিয়ান প্রস্তুতে জাবেদা সহায়ক বহি স্বরূপ কাজ করে ।খতিয়ানের লিপিবদ্ধের সময় জাবেদা পৃঃ নম্বর উল্লেখ করা হয়।
  • খতিয়ান হতে প্রাপ্ত হিসাবের উদ্ধৃত্ত দ্বারা রেওয়ামিল প্রস্তুত করা হয় এবং হিসাব সংরক্ষন কার্যক্রমের গানিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়।

খতিয়ানের গুরুত্ব :

লেনদেন সমূহ সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে লিখে রাখা হয় বিধায় হিসাব তথ্য ব্যবহারকারিী গন সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ান হতে পেতে পারে । খতিয়ান হতে ব্যবসায়ের আয়-ব্যয়,সম্পদ,দায় ও মালিকানাস্বত্বের পরিমান সম্পর্কে ধারনা লাভ করা সম্ভব ।রেওয়ামিল প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ধত্ত খতিয়ান হতে সংরক্ষন করা হয় । এবং এর মাধ্যমে হিসাবের গানিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়। খতিয়ানের গুরুত্ব ও উপকারিতা প্রকাশের জন্য একটি কথায় প্রচলিত রয়েছে।খতিয়ান হিসাবে সকল বইয়ের রাজা।

খ) সহায়ক তথ্য অবলম্বনে নগদান, ক্রয়-বিক্রয় ও আসবাবপত্র হিসাব “T” ছকে প্রস্তুত করে জের/উদ্বৃত্ত নির্ণয় করণ

খতিয়ান হিসাব

গ) সহায়ক তথ্য অবলম্বনে দেনাদার, পাওনাদার, ব্যাংক ও উত্তোলন হিসাব “চলমান জের ছকে” প্রস্তুত করে জের/উদ্বৃত্ত নির্ণয় করণ

ঘ) নির্ণয়কৃত খতিয়ান উদ্বৃত্ত দ্বারা হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করণ

এই ছিল তোমাদের এসএসসি ২০২১ সালের ৮ম সপ্তাহের হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্টের বাছাইকরা নমুনা সমাধান/ উত্তরব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাকা বই হিসেবে খতিয়ান।

এসএসসি ২০২১ সালের ৮ম সপ্তাহের অন্যান্য অ্যাসাইনমেন্টের বাছাইকরা নমুনা সমাধান/ উত্তর

[ninja_tables id=”11807″]

আরো দেখুন-

প্রতি সপ্তাহে সকল স্তরের অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ এর ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং প্লেস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ