একাডেমিক

হিসাবরক্ষণে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়ােগ

২০২২ সালের সুপ্রিয় এসএসসি শিক্ষার্থীবৃন্দ, আশা করছি সকলে সুস্থ আছো। চলমান কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মােতাবেক পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমে পুরােপুরি সম্পৃক্তকরণ ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় আনয়নের জন্য ৯ম সপ্তাহের হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সম্পর্কিত ধারণা দেওয়ার নিমিত্তে আজকের আর্টিকেলে এসএসসি ২০২২ নবম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান- হিসাবরক্ষণে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়ােগ নিয়ে আলোচনা করবো।

এসএসসি ২০২২ নবম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট

হিসাব বিজ্ঞান পাঠ্য বইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠা থেকে দুরতফা দাখিলা পদ্ধতির ধারণা, বৈশিষ্ট্য বর্ণনা, লেনদেনে জড়িত দুটি পক্ষ অর্থাৎ ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ শনাক্ত/চিহ্নিত করতে পারা পড়ে ৯ম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

নিচের ছবিতে এসএসসি ২০২২ নবম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলো-

হিসাব বিজ্ঞান ২নং অ্যাসাইনমেন্ট এস এস সি পরীক্ষা ২০২২

অ্যাসাইনমেন্টঃ “হিসাবরক্ষণে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়ােগ”

সহায়ক তথ্য: মেসার্স জয়া এন্ড কোং-এর কতিপয় লেনদেন নিম্নরূপ:

  • ১। মিসেস জয়া মুখার্জি ব্যবসায়ে আরাে ২০,০০০ টাকা বিনিয়ােগ করলেন।
  • ২। অফিসের জন্য একটি কম্পিউটার ক্রয় করা হলাে ২৫,০০০ টাকা।
  • ৩। অফিস ভাড়া তিন মাসের অগ্রিম প্রদান করা হলাে ১৮,০০০ টাকা।
  • ৪। রাজনের নিকট বিক্রয় করা হলাে ২৫,০০০টাকা।
  • ৫। ব্যাংক চার্জ ধার্য করল ১,৫০০ টাকা।
  • ৬। ব্যাংক হতে উত্তোলন করা হলাে ৬,০০০ টাকা।
  • ৭। ধারে পণ্য ক্রয় করা হলাে ১৫,০০০ টাকা।
  • ৮। মজুরি প্রদান করা হলাে ৩,০০০ টাকা।
  • ৯। ক্রয় ফেরত ২,০০০ টাকা।
  • ১০। ব্যাংকে জমা দেওয়া হলাে ১০,০০০ টাকা।

লেখার নির্দেশনা: (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

  • ক. দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির ধারণা;
  • খ. দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য;
  • গ. ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয়ের নিয়মাবলি (পাঠ্য বইয়ের আলােকে);
  • ঘ. সংযুক্ত লেনদেনগুলাের ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ কারণসহ নির্ণয় করা (পাঠ্য বইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠার আলােকে);

এসএসসি ২০২২ নবম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান

হিসাবরক্ষণে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়ােগ

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির ধারণা

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি বলতে বুঝায়, প্রতিটি লেনদেনকে দুটি পক্ষে বা দুতরফাভাবে হিসাবে লিপিবদ্ধ করা। আমরা জানি, এক হাতে তালি বাজেনা। ঠিক তেমনি, একটি পক্ষ দ্বারা লেনদেন সম্ভব নয়। লেনদেন হতে হলে এক পক্ষ সুবিধা প্রদানকারী ও অন্য পক্ষ সুবিধা গ্রহনকারী থাকে। এই ধারণা থেকেই দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি লেনদেনকে দুটি পক্ষে বা দুটি হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এক্ষেত্রে, সুবিধা গ্রহনকারী হিসাবকে (গ্রহীতা) ডেবিট ও সুবিধা প্রদানকারী হিসাবকে (দাতা) ক্রেডিট হিসেবে, হিসাবের বিভিন্ন বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

উল্লেখ্য, এখানে ডেবিট ও ক্রেডিট কি তা আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন। হিসাববিজ্ঞানে ডেবিট (Debit) ও ক্রেডিট(Credit) হলো একটি প্রতীক, যার কোন বিশেষ অর্থ নেই। সুবিধা গ্রহণকারীকে ডেবিট প্রতীক ও সুবিধা প্রদানকারীকে ক্রেডিট প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করে হিসাবের বিভিন্ন বইতে লিপিবদ্ধ করা হয়। ধরে নাও, তুমি তোমার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, কিরনকে ৫,০০০ টাকা বেতন হিসেবে প্রদান করেছ।

এ ঘটনাটি বিশ্লেষন করেলে তুমি খেয়াল করবে,

  • ১। বেতন হিসেবে দিলাম ৫,০০০ টাকা।
  • ২। আমার ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ টাকা কমে গেলো ৫,০০০ টাকা।

তাহলে নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পারছো যে এখানে ২টি হিসাব বা পক্ষ প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।

এখন এই লেনদেনটি হিসাবে লিখতে হলে এভাবে লিখব-

  • বেতন হিসাব …………… (ডেবিট) ৫,০০০ টাকা
  • নগদান হিসাব ………….. (ক্রেডিট) ৫,০০০ টাকা।

আশা করি বুঝতে পেরেছ যে, দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি কি, কেন দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি ব্যবহার হয়।

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য এর ২টি পক্ষ থাকবে। এক পক্ষ (সুবিধা গ্রহণকারী) ডেবিট ও অন্য পক্ষ (সুবিধা প্রদানকারী) ক্রেডিট। উভয় পক্ষ, সমপরিমান অর্থ দ্বারা প্রভাবিত হবে-

১. দ্বৈত স্বত্তা
২. দাতা ও গ্রহীতা
৩. ডেবিট ও ক্রেডিট করা
৪. সমান অঙ্কেও আদান-প্রদান
৫. সামগ্রিক ফলাফল।

এখন তোমার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে, কিভাবে আমরা বুঝব যে, কোন কোন হিসাবটি লেনদেনের পক্ষ হবে বা কিভাবে পক্ষগুলো চিনতে পারব। এজন্য, হিসাববিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হিসাব সমীকরণের ধারণা প্রয়োগ করে লেনদেনের ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয় করতে হবে।

ডেবিট ও ক্রেডিট নির্ণয়ের নিয়মাবলী (পাঠ্যবইয়ের আলোকে)

আধুনিক বা সমীকরণ পদ্ধতিতে ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয়ের সূত্র বা নিয়মঃ আধুনিক বা সমিকরণ পদ্ধতিতে হিসাবের ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয়ের জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে হিসাবের প্রকার বা শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কেও ধারনা থাকা উচিৎ। আধুনিক পদ্ধতিতে হিসাব সমূহকে ৫ টি ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-

  • সম্পদ ও সম্পত্তি হিসাব
  • ব্যয় হিসাব
  • আয় হিসাব
  • দায় হিসাব
  • মালিকানা সত্ত্ব হিসাব

নিম্নে ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি বা সূত্র শর্ট, সংক্ষিপ্ত ও সহজ আকারে তুলে ধরা হলো-

১. সম্পদ ও সম্পত্তি এবং ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট আর হ্রাস পেলে ক্রেডিট হবে।
২. আয়, দায় ও মালিকানা সত্ত্ব বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট এবং হ্রাস পেলে ডেবিট হবে।

রোদেলার নিকট থেকে বাকিতে ৫০০ টাকার পন্য ক্রয়, একটি লেনদেন। এখানে হিসাব সমূহ, ১. ক্রয় হিসাব ও ২. প্রদেয় বা পাওনাদার (রোদেলা) হিসাব।

১. যেহেতু ক্রয় হিসাব ব্যয় জাতীয় হিসাব এবং ক্রয় করার ফলে ব্যয় বা খরচ বাড়ে এবং সূত্র অনূযায়ী ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ডেবিট তাই ক্রয় হিসাব ডেবিট হবে।
পাওনাদার (রোদেলা) হিসাব দায় জাতীয় হিসাব এবং বাকিতে ক্রয় করায় প্রতিষ্টান অন্যের নিকট দায় গ্রস্থ হচ্ছে বা দায় দেনা বেড়ে যাচ্ছে এবং সূত্র অনূযায়ী দায় বৃদ্ধি পেলে ক্রেডিট তাই পাওনাদার (রোদেলা) হিসাব ক্রেডিট হবে।

উদাহরণের সাহায্যে সনাতন পদ্ধতিতে ডেবিট ক্রেডিট চেনার বা নির্ণয়ের উপায়ঃ

১. নগদে পন্য বিক্রয়।

  • নগদান হিসাব -ডেবিট (কারণ সম্পত্তিবাচক হিসাব অনুযায়ি সম্পদ বৃদ্ধি)
  • বিক্রয় হিসাব -ক্রেডিট (কারণ নামিক হিসাব অনুযায়ী আয় বৃদ্ধি)

২. আয়কর প্রদান করা হলো।

  • উত্তলোন হিসাব -ডেবিট (কারণ ব্যক্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী দায় হ্রাস)
  • নগদান হিসাব -ক্রেডিট (কারণ সম্পত্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী সম্পদ হ্রাস)

৩. জীবন বিমা প্রদান করা হলো।

  • উত্তলোন হিসাব -ডেবিট (কারণ ব্যক্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী দায় হ্রাস)
  • নগদান হিসাব -ক্রেডিট (কারণ সম্পত্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী সম্পদ হ্রাস)

৪. মালিক নিজ প্রয়োজনে নগদ উত্তলোন করলেন।

  • উত্তলোন হিসাব -ডেবিট (কারণ ব্যক্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী দায় হ্রাস)
  • নগদান হিসাব -ক্রেডিট (কারণ সম্পত্তিবাচক হিসাব অনুযায়ী সম্পদ হ্রাস)

সংযুক্ত লেনদেনগুলোর ডেবিট ও ক্রেডিট পক্ষ কারন সহ নির্ণয় করা (পাঠ্যবইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠার আলোকে)

এটিই তোমাদের এসএসসি ২০২২ নবম সপ্তাহ হিসাব বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান- হিসাবরক্ষণে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির প্রয়ােগ নিয়ে আলোচনা।

আপনার জন্য আরও কিছু তথ্যঃ

অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত সকল তথ্য সবার আগে পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ এর ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন, ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে নিন এবং ফেসবুক পেইজ টি লাইক এবং ফলো করে রাখুন। খরচ বাঁচাতে এবং সবার আগে আপডেট পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ