ব্যবসা

কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মাস্কের বিভিন্ন দামে চাহিদা ও যােগানের পরিমাণ

আজকে আমরা ২০২১ সালের মানবিক বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান অর্থাৎ কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মাস্কের বিভিন্ন দামে চাহিদা ও যােগানের পরিমাণ বিশ্লেষণ সম্পর্কে জানবো। এতে তোমাদের এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান বা উত্তর লিখতে সহজ হবে।

নিচের ছবিতে প্রথমে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ৬ষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট দেখে নাও

এসএসসি ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট

অ্যাসাইনমেন্ট: কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মাস্কের বিভিন্ন দামে চাহিদা ও যােগানের পরিমাণ :

মাস্কের দাম (টাকায়)চাহিদার পরিমান (সংখ্যায়)যোগানের পরিমান (সংখ্যায়)
৩০০১০
২০০
১০০১০

উক্ত সূচি অনুযায়ী চাহিদা রেখা, যােগান রেখা, ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয়সহ পছন্দমতাে দ্রব্যের একটি চাহিদা সূচি নিয়ে চাহিদা রেখা অংকন;

নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):

  • চাহিদা;
  • চাহিদা সূচি;
  • চাহিদা-রেখা;
  • যােগান;
  • যােগান সূচি;
  • যােগান-রেখা;
  • ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ;

এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২১ ষষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি এ্যাসাইনমেন্ট সমাধান বা উত্তর

কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মাস্কের বিভিন্ন দামে চাহিদা ও যােগানের পরিমাণ : উক্ত সূচি অনুযায়ী চাহিদা রেখা, যােগান রেখা, ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয়সহ পছন্দমতাে দ্রব্যের একটি চাহিদা সূচি নিয়ে চাহিদা রেখা অংকন;

ক) চাহিদা রেখা অঙ্কন

অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকা অবস্থায় কোন দ্রব্যের দাম ও চাহিদার পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ককে যে সারণির মাধ্যমে দেখানো হয় তা হচ্ছে চাহিদা সূচি। সারণি-১ এ মাস্ক এর চাহিদা সূচি দেখানো হয়েছে। প্রতিটি দামে ভোক্তা যে পরিমাণ মাস্ক ক্রয় করে তা নির্ধারণ করতে পারি।

সারণিতে, সারণিতে মাস্ক এর দাম যখন ৩০০ টাকা দামে ভোক্তা তখন ৬, ২০০ টাকা দামে ভোক্তা ৮। এভাবে সারণি থেকে দেখা যায়, দাম যত কমছে মাস্কের চাহিদার পরিমাণ তত বাড়ছে। চাহিদা সূচি অনুযায়ী আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদার অন্যান্য নির্ধারণসমূহ স্থির থাকা অবস্থায় দ্রব্যের দামের উপর দ্রব্যটির প্রকৃত ক্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করে।

চিত্র ১: মাস্ক এর চাহিদা রেখা

রেখাচিত্রের মাধ্যমে চাহিদা সূচির প্রকাশই হচ্ছে চাহিদা রেখা। চিত্র ১ এ YO বা লম্ব অক্ষে মাস্কের দাম ও XO বা ভূমি অক্ষে মাস্কের চাহিদার পরিমাণ দেখানো হয়েছে। DD হচ্ছে ভোক্তার মাস্কের চাহিদা রেখা। এই রেখার a,b,c বিন্দুগুলোতে বিভিন্ন দামে চাহিদার বিভিন্ন পরিমাণ প্রকাশ পায়। যেমন, a বিন্দু দ্বারা বোঝা যায়, ৩০০ টাকা দামে ভোক্তা ৬ টি মাস্ক ক্রয় করে। আবার b বিন্দুতে ২০০ টাকা দামে ভোক্তা ৮ টি মাস্ক ক্রয় করে। অর্থাৎ দাম ও চাহিদার মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। দাম কমার সাথে সাথে চাহিদার পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং চাহিদা রেখাটি বাম থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়ে থাকে।

খ) যোগান রেখা অংকন ও ব্যাখ্যা

চাহিদা সূচির মত যোগান সূচিকে একটি ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় যা দ্রব্যের দাম ও যোগানের পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক দেখায়। সারনি ২ এ চিনির যোগান সূচি দেখানো হলো :

সারণি ২ : মাস্ক এর যোগান সূচি

সংমিশ্রণমাস্ক এর দাম (টাকায়)যোগান এর পরিমাণ(সংখ্যায়) 
a৩০০১০
b২০০
c১০০

সারনি ২ এ দেখা যাচ্ছে যে, মাস্কের বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে মাস্কের যোগানের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যখন অন্যান্য বিষয় (যা বিক্রেতার বিক্রির পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে) অপরিবর্তিত থাকে।

চিত্র ২: মাস্কের যোগান রেখা

সারনি ২ এর যোগানসূচিকে আমরা যোগান রেখার সাহায্যে উপস্থাপন করতে পারি। চিত্র ২ এ OY অক্ষে মাস্কের দাম ও OX অক্ষে মাস্কের যোগানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। চিনির দাম ও চিনির যোগানের পরিমাণ- এই দুইয়ের বিভিন্ন সংমিশ্রণ a,b,c এই বিন্দুগুলোর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। a,b,c এই বিন্দুগুলো যোগ করে বাম থেকে ডানদিকে উর্ধ্বগামী যোগান রেখা পাই। সুতরাং যোগান রেখা দ্রব্যের দাম ও যোগানের পরিমাণের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ককে প্রকাশ করে। অর্থাৎ, দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলে যোগান বৃদ্ধি পায় এবং দ্রব্যের দাম হ্রাস পেলে যোগান হ্রাস পায়। এখানে SS যোগান রেখা ।

গ) ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয়

কিভাবে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারে দ্রব্যের দাম ও পরিমাণ নির্ধারিত হয়। বাজারে কিভাবে দাম নির্ধারিত হয় তা বিশ্লেষণের জন্য ভোক্তার চাহিদা ও বিক্রেতার যোগানের মধ্যে তুলনা করতে হবে এবং দেখতে হবে কোথায় চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান। সারণি ৩ ও চিত্র ৩ এ ব্যাপারে আমাদেরকে সাহায্য করবে।

সারণি ৩: মাস্কের ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ধারণ

দাম চাহিদাযোগানউদ্বৃত্ত বা ঘাটতি 
৩০০১০উদ্বৃত্ত
২০০ভারসাম্য
১০০১০ঘাটতি 

চিত্র ৩ এ বাজার চাহিদা রেখা (DD) ও বাজার যোগান রেখা (SS) পরস্পরকে ব বিন্দুতে ছেদ করেছে। এই বিন্দুতে বাজার ভারসাম্য বিদ্যমান। ভারসাম্য হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যেখানে একটি নির্দিষ্ট দামে চাহিদার পরিমাণ ও যোগানের পরিমাণ সমতায় পৌঁছে। চাহিদা ও যোগানের ছেদবিন্দুতে যে দাম বিদ্যমান তা হচ্ছে ভারসাম্য দাম এবং দ্রব্যের পরিমাণ হচ্ছে ভারসাম্য পরিমাণ।

চিত্রে, ভারসাম্য দাম ২০০ টাকা (প্রতি কেজি) এবং ভারসাম্য পরিমাণ ৮। ভারসাম্য দামে ভোক্তা বা ক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য ক্রয় করতে ইচ্ছুক এবং বিক্রেতা যে পরিমাণ দ্রব্য বিক্রি করতে রাজি থাকে এ দু’য়ের পরিমাণ সমান থাকে। এই ভারসাম্য দামকে মাঝে মাঝে market clearing price ও বলা হয়। কারণ, এ দামে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই সন্তুষ্ট থাকে। সাধারণত ক্রেতা ও বিক্রেতা ক্রিয়া চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়।

ঘ) একটি পছন্দমত দ্রব্যের চাহিদা সূচি ও রেখা অঙ্কন

চিনির চাহিদা সূচি
চিনির চাহিদা রেখা

এই ছিল তোমাদের ২০২১ সালের মানবিক বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ষষ্ঠ সপ্তাহের অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান অর্থাৎ কোভিট-১৯ পরিস্থিতিতে মাস্কের বিভিন্ন দামে চাহিদা ও যােগানের পরিমাণ

আরো দেখুন-

৬ষ্ঠ সপ্তাহে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের অন্যান্য বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট ও সমাধান
[ninja_tables id=”10969″]

এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ অ্যাসাইনমেন্ট ৬ষ্ঠ সপ্তাহ সকল অ্যাসাইনমেন্ট ও সমাধান

[ninja_tables id=”10942″]

প্রতি সপ্তাহে সকল স্তরের অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ এর ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং প্লেস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ