ইসলাম

সূরা আল বাকারার ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের অর্থ, শানেনুযুল , শিক্ষা ও ‘কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী’ -এর সঠিকতা বিশ্লেষণ

আজ আলোচনা করবো এইচএসসি ২০২১ ৬ষ্ঠ সপ্তাহ ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর বাছাইকরা নমুনা উত্তর/ সমাধান। উক্ত আর্টিকেল পর্যালোচনা শেষে এইচএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থীরা ৬ষ্ঠ সপ্তাহের ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবে এবং অ্যাসাইনমেন্টটি সুন্দরভাবে সমাধান করতে পারবে। অ্যাসাইনমেন্টের নির্ধারিত শিরোনাম- সূরা আল বাকারার ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের অর্থ, শানেনুযুল , শিক্ষা ও ‘কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী’ -এর সঠিকতা বিশ্লেষণ।

এইচএসসি ২০২১ ৬ষ্ঠ সপ্তাহ ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট

অ্যাসাইনমেন্ট : সূরা আল বাকারার ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের অর্থ, শানেনুযুল , শিক্ষা ও ‘কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী’ -এর সঠিকতা বিশ্লেষণ।

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/পরিধি):

নিচের বিষয়গুলাে বিবেচনায় রেখে লিখতে হবে: সূরা আল বাকারার-

ক. ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের অর্থ।

খ. ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের শানেনুল।

গ. ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের শিক্ষা।

ঘ. ‘রাসূল (স.) এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা আল কুরআন’- উক্তিটির ব্যাখ্যা।

ঙ. “রিসালাত ও কুরআনে সন্দেহ পােষণকারীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ” আয়াতদ্বয়ের আলােকে বিশ্লেষণ।

এইচএসসি ২০২১ ৬ষ্ঠ সপ্তাহ ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর বাছাইকরা নমুনা উত্তর/ সমাধান

ক) সূরা বাকারার ২৩-২৪ আয়াতের অর্থঃ

وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (23

“আমি আমার বান্দার (মোহাম্মাদের) প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকলে তোমরা তার মত কোন সূরা আনো। আর যদি সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজের জন্য আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সব সাক্ষীকে আহ্বান কর।” (২:২৩)

খ) সূরা বাকারার ২৩-২৪ আয়াতের শানেনযূলঃ

আইয়ামে জাহেলীর যুগ অর্থাৎ অন্ধকার আচ্ছন্নযুগ এই যুহেরর সময় এমন কোনো খারাপ কাজ ছিল না, যা সংগঠিত হয় নি। পুরো পৃথিবী বেশি যখন তাদের পাপের কারণে ধ্বংস হওয়ার পথে তখনই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার প্রিয় নবী প্রিয় বান্দা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন। এবং ৪০ বছর বয়সে তাকে নবুয়াত দান করেন। এবং তার কাছে প্রেরণ করেন মহামান্বিত আল কোরআন। মানুষের জন্য সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব। কিন্তু এই কিতাব একসাথে নাজিল হয়নি হয়েছে প্রয়োজন অনুসারে খন্ড খন্ড আকারে দীর্ঘ ২৩ বছর। 

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা দয়াকরে যে কিতাব দিলেন কিছু বিপথগামী মানুষ সেই কিতাব কি অস্বীকার করতে থাকে। এমনকি রাসুল সাল্লালাহ সালামের নবুয়াত কে অস্বীকার করে। তারা বলে মোহাম্মদ সাল্লালাহ সালাম নাকি জাদুকর। তিনি নাকি কবি নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। আবার কেউ কেউ বলে হরযত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম অন্য ধর্মগ্রন্থ থেকে নকল করেছেন।তাদের এসব কথাবার্তার জবাবে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত তা তুলে ধরেছেন অথচ তিনি ছিলেন অক্ষরজ্ঞানহীন।

এমতাবস্থায় আল্লাহ সুবহানুওতায়ালা সূরা আল বাকারার ২৩ নম্বর আয়াত নাযিল করেন এবং জানিয়ে দেন- আমি যে আমার বান্দার উপর অবতীর্ণ করেছি তাও যদি তোমরা অবিশ্বাস করো তবে এরূপ একটি কুরআন রচনা করে দেখাও। এবং সাহায্যকারী হিসেবে নাও আল্লাহ ব্যতীত যাকে খুশি তাকে। এবং আল্লাহ তা’আলা ফলাফল ঘোষণা করে দেন নিশ্চয়ই তোমরা পারবে না। তাহলে সেই আগুন কে যার ইন্ধন হবে পাথর ও মানুষ।

গ) সূরা বাকারার ২৩-২৪ আয়াতের শানেনযুলঃ

২৩ নং আয়াতের শিক্ষা

এ আয়াতের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা হতে যে শিক্ষণীয় বিষয় পাওয়া যায়, তা হচ্ছে-

  • ক. হযরত মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, এরই একটি দলিল হচ্ছে আল-কুরআন।
  • খ. কুরআন মহান আল্লাহর বাণী, এটা মানব-রচিত কোন রচনা কর্ম নয়।
  • গ. আল-কুরআন যে আল্লাহর বাণী, এতে কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই।
  • ঘ. কুরআন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চিরন্তন মুজিযা।

মহান আল্লাহ কাফির-মুনাফিক তথা আল্লাহদ্রোহী শক্তির প্রতি চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে বলেছেন, আমার প্রিয় বান্দা হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর প্রতি আমার প্রেরিত যে কিতাব (আল-কুরআন) নাযিল করেছি, তা আমার প্রেরিত কিনা, সে বিষয়ে তোমাদের মনে যদি কোন প্রকার সন্দেহ-সংশয় জেগে থাকে, তাহলে তোমরা অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে এসো। না পারলে সমগ্র পৃথিবী হতে তোমাদের সকল সমর্থক ও একমনা লোকদের সাহায্য-সহায়তা নিয়ে হলেও কুরআনের একটি ছোট সূরা রচনা করে আনয়ন করো।

কিন্তু না, তোমরা তা কখনই পারবে না। আল্লাহ ব্যতীত এ কাজ কেউই করতে পারবে না। জাহান্নামের আগুন ও কঠিন শাস্তিকে ভয় কর। কেননা এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটা মানব রচিত কোন গ্রন্থ নয়। কুরআনের এ আয়াতখানা বিশ্ববাসীর প্রতি চ্যালেঞ্জ। তৎকালীন আরব বিশ্বের সমস্ত কবি-সাহিত্যিক সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়েও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি এবং তারা লজ্জায় নির্বাক ও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আরবের অন্যতম কবি ‘লাবীদ’ কুরআনের ক্ষুদ্রতম সূরা আল-কাউসারের অনুরূপ কোন সূরা রচনায় ব্যর্থ হয়ে বলেছিলেন-البشر كلام من ھذا لیس ‘এটা কোন মানুষের বাণী নয়।’

২৪ নং আয়াতের শিক্ষা

এ আয়াত থেকে আমরা এ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যে-

  • ১. সফলতার জন্য ঈমান আনা জরুরি।
  • ২. আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমানের সাথে সাথে তার নাযিলকৃত কুরআনকে জীবন বিধান রূপে গ্রহণ
  • ৩. সৎ কর্মমূলক জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

এ আয়াতটি কুরআনের অন্যতম মুজিযা, আল্লাহর চিরন্তন ভবিষ্যদ্বাণী ও চ্যালেঞ্জ। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে যে, কাফির, মুশরিক ও অমুসলিমগণ সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও কুরআনের অনুরূপ কোন সূরা তারা রচনা করতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলার এ ঘোষণা ও চ্যালেঞ্জ শোনার পর কাফির ও মুশরিকরা ক্রোধে ফেটে পড়ে এবং এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করে।‘মানুষ ও পাথর হবে যার জ্বালানি’ দ্বারা বুঝা যায় যে, কেবল কাফিররাই জাহান্নামের জ্বালানি হবে না; বরং সে সাথে তাদের নিজেদের হাতে গড়া পাথরের মূর্তিসহ যেগুলোকে তারা দেবতা হিসেবে উপাসনা করত, সেগুলোও দোযখের ইন্ধন এবং জ্বালানি হবে। এসব দেবতা ও মূর্তিগুলো কোন অবস্থাতেই আল্লাহর সমকক্ষ নয়, তা সেখানে বাস্তবে দেখানো হবে।

কুরআনের আয়াতে এরূপ চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানেও এ চ্যালেঞ্জ কার্যকর রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা কার্যকর ও বলবৎ থাকবে। কিন্তু কোন যুগেই কোন পক্ষ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা সে ঘোষণাই জারি করেছেন।

এটিই তোমাদের এইচএসসি ২০২১ পরীক্ষার্থীরা ৬ষ্ঠ সপ্তাহের ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তরসূরা আল বাকারার ২৩ থেকে ২৪ আয়াতের অর্থ, শানেনুযুল , শিক্ষা ও ‘কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী’ -এর সঠিকতা বিশ্লেষণ।

 আরো দেখুন-

প্রতি সপ্তাহে সকল স্তরের অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ এর ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং প্লেস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ