সর্বশেষ আপটেড

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ

২০২১ সালের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ ৭ম সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এর বাছাইকরা উত্তর- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ নিয়ে আজকে হাজির হলাম।

এই আলোচনা সঠিকভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে তোমরা দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সপ্তম সপ্তাহের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদানকৃত পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান/ উত্তর খুব ভালো ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

আমরা এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ এর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র এসাইনমেন্টের দেওয়া নির্দেশনা সমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রশ্নে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব যাতে তোমাদের অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে সুবিধা হয়।

এইচএসসি ২০২১ ৭ম সপ্তাহ পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র অ্যাসাইনমেন্ট

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১; বিভাগ: মানবিক; বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র ; বিষয় কোড:২৬৯;

অ্যাসাইনমেন্ট : সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক যৌক্তিকতা নিরূপণ

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি)

  • গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  • সংসদীয় এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এর সম্পর্ক।

নির্দেশক :

  • ক. গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য
  • খ. সংসদীয় সরকার ও এর বৈশিষ্ট্য
  • গ. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও এর বৈশিষ্ট্য
  • ঘ. সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এর পার্থক্য
  • ঙ. উপস্থাপনা কৌশল

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ ৭ম সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এর বাছাইকরা উত্তর

ক. গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য

গণতন্ত্র (Democracy)

গণতন্ত্র আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা। সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন’। গণতন্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন দার্শনিক, চিন্তাবিদ বিভিন্নভাবে সংজ্ঞা প্রদান করেছেন

গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস (Herodotus) বলেন, “গণতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনগত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।“ অধ্যাপক ম্যাকাইভার (Prof. Maciver)- এর মতে, “গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অন্য কারো দ্বারা শাসন পরিচালনার পদ্ধতি নয়, বরং কে বা কারা শাসন করবে এবং মোটামুটিভাবে কোন উদ্দেশ্যে শাসন করবে তা নির্ধারণ করার উপায়স্বরূপ।” অধ্যাপক সীণি (Prof. Seely) গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ আছে।” (Democracy is a government in which everyone has a share). অধ্যাপক ডাইসি (Prof. Dicey) বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ”।

সি.এফ. স্ট্রং (C.F. Strong) বলেন, “শাসিতের সক্রিয় সম্মতির ওপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত, তাকে গণতন্ত্র বলে।“ (Democracy implies that government which shall rest on active consent of the governed.) লর্ড ব্রাইস (Lord Bryce)-এর মতে, “যে শাসন ব্যবস্থায় জনসমষ্টির তিন-চতুর্থাংশ নাগরিকের অধিকাংশের মতে শাসনকার্য পরিচালিত হয় তাই গণতন্ত্র।” গণতন্ত্র সম্পর্কে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন (Abraham Lincoln) তাঁর মতে, “গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের জন্য জনগণের দ্বারা, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।” (Democracy is a government of the people. by the people and for the people. সুতরাং গণতন্ত্র বলতে এমন এক শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে জনগণের সম্মতি বা ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত ও পরিচালিত হয়। অনগণের সমর্থন ব্যতীত এ ধরনের সরকার গঠিত হতে পারে না। গণতন্ত্রে জনগণের কল্যাণে শাসন কার্য পরিচালিত হয়।

গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য (Features of Democracy)

গণতন্ত্র বলতে জনগণের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় গণতন্ত্র জনগণের কথা বলে। তাই এ ধরনের শাসনব্যবস্থার জনমতের প্রতিফলন ঘটে থাকে। নিম্নে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো

১. বহুদলীয় ব্যবস্থা : গণতন্ত্র হলো বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা। এ পদ্ধতিতে সরকারে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে। তাই বহুদলীয় ব্যবস্থা হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের অন্যতম প্রয়োজনীয় দিক।

২. নিয়মতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা : গণতন্ত্রে নিয়মতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিরাজমান থাকে। কেননা গণতন্ত্রে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন করা যায়। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন বা পরিবর্তন করা হয়।

৩. জনগণের সম্মতি : গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা জনগণের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। এ ব্যবস্থায় জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন বা পরিবর্তন করতে পারে।

৪. প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার : গণতন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার একটি মূল্যবান রাজনৈতিক অধিকার। এ ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়। ফলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের প্রতিফলন ঘটে ।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ

৫. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা : স্বাধীন সংবাদপত্র বা ‘ফ্রি প্রেস’ গণতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূমিকা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অপরিহার্য। কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্র জনগণ ও সরকার উভয়কে শিক্ষিত ও সচেতন করে তোলে।

৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা : গণতন্ত্রে বিচার বিভাগ জনগণের জীবন, সম্পদ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ করে। এ জন্যই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এর অভাবে গণতন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৭. আইনের শাসন : গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য আইনের শাসন। এখানে আইনের চোখে সকলেই সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ কারণে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে আইনের অনুশাসন মেনে চলতে হয়।

৮. দায়িত্বশীলতা : দায়িত্বশীলতা গণতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ ব্যবস্থায় সরকার তাদের কাজের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের নিকট দায়ী থাকে।

খ. সংসদীয় সরকার ও এর বৈশিষ্ট্য

সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার Parliamentary or Cabinet Form of Government আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। অধ্যাপক গার্নার-এর মতে, “সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থা এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রকৃত শাসক বা মন্ত্রিপরিষদ আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন।” এ. ডি. ডাইসি (A V. Dicey)-এর মতে, “মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার গড়ে ওঠে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের একত্রীকরণের ভিত্তিতে এবং উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে।

অধ্যাপক গ্রেভাস (Prof. Greavas) বলেন, ‘সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার হলো রাষ্ট্রের প্রভু বা শাসক এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন ঐ সরকারের প্রভু বা প্রধান” (In Parliamentary system the government is the master of country and Prime Minister is the master of government)। সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসনব্যবস্থায় একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে আইনসভার আস্থাভাজন মন্ত্রিসভার হাতে। প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার নেতা, সংগঠক ও সরকারপ্রধান মন্ত্রিসভা পর্যন্ত আইনসভার আস্থাভাজন থাকবে, ততক্ষণ শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু আইনসভার অনাস্থা প্রকাশ পেলে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য মন্ত্রিগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে সংসদের নিকট জবাবদিহি করেন। শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা জনগণের প্রতিনিধিসভা অর্থাৎ আইনসভার নিকট দায়ী থাকে বলে এই সরকারকে দায়ী সরকারও (Responsible Government) বলা হয়ে থাকে। গ্রেট ব্রিটেন, ভারত, বাংলাদেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Parliamentary Form of Government)

বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থা একটি অতি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নিম্নে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো :

১. আইনসভার প্রাধান্য সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা শাসন কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেন।

২. নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপ্রধান নামমাত্র বা নিয়মতান্ত্রিক শাসক। এ সরকারের প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে। তখন রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়া সাধারণত কিছু করেন না।

৩. দায়িত্বশীল শাসন সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। এ সময় আইনসভা আস্থা হারালে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

৪. মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে আইনসভার সদস্য হতে হয় । কোনো মন্ত্রি আইনসভার সদস্য না হলে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হতে হয় ।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ

৫. ক্ষমতার একত্রীকরণ সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় আইন পরিষদের একটি অংশ নিয়ে শাসন বিভাগ গঠিত হয়। তখন শাসন ও আইন বিভাগীয় ক্ষমতার একত্রীকরণ ঘটে। ফলে একই ব্যক্তির হাতে আইন প্রণয়ন ও শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা ন্যস্ত হয়।

৬. নমনীয়তা : সংসদীয় সরকার সাধারণত নমনীয় প্রকৃতির হয়। কেননা সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যেকোনো নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বা পরিবর্তন এবং অনাস্থা এনে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়।

৭. দলীয় শাসন সংসদীয় শাসনব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় সংসদ বা আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। অন্য দলগুলো আইনসভায় বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে।

৮. প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক হয়। এ সরকার ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে সরকার গঠিত হয়।

গ. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও এর বৈশিষ্ট্য

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার

যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কার্যাবলির জন্য সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী থাকে না, তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলা হয়। এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং তিনি সাধারণত আর. এন. গিলক্রিষ্ট (R. N. Gilchrist) বলেন, “রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হলো ঐ সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌম আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না। ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত এবং রাষ্ট্রপতি তার কাজের জন্য আইন পরিষদের প্রভাবমুক্ত।”

অধ্যাপক এফ. আর. সিলি (Prof. F. R. Seeley)-এর মতে, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ইচ্ছায় পরিচালিত সরকার হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার”। অধ্যাপক জে. ডব্লিউ গার্নার (Prof. J. W. Garner) বলেন, “যে শাসনব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ তাদের কার্যকালের মেয়াদ এবং কার্যাবলির জন্য আইনসভার নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকে, তাকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলে।” রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান। তাঁকে সাহায্য করার জন্য একটি মন্ত্রিসভা থাকে রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত খেয়ালখুশিমতো মন্ত্রী নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল প্রভৃতি রাষ্ট্রে” রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রচলিত রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Presidential Form of Government)

গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার দুটি রূপের একটি হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি। এ পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার কতকগুলো অন্যতম বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে অন্যান্য সরকার হতে পৃথক করেছে নিম্নে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:

১. রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনিক চরম কর্তৃত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে। এরূপ সরকারে তিনিই নামে ও কাজে রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রকৃত শাসক। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় এরূপ ক্ষমতার অধিকারী হন।

২. সরকার স্থিতিশীল হয় এই সরকার ব্যবস্থায় সরকার স্থিতিশীল হয়। কেননা রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন। অভিশংসন প্রস্তাব ছাড়া আইনসভা রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না।

৩. অনুগত মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন মন্ত্রিগণ তাঁদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতি যেকোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী নিয়োগ এবং যেকোনো মন্ত্রীকে যেকোনো সময় মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করতে পারেন।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ

৪. আইনসভা নিয়ন্ত্রণমুক্ত আইনসভা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে না। কেবল বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব। সাধারণভাবে তিনি আইনসভার নিকট দায়ী নন। আবার তিনি আইনসভাকে ভেঙে দিতে পারেন না।

৫. বিচার বিভাগের প্রাধান্য রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর থাকায় বিচার বিভাগের প্রাধান্য থাকে। স্বাধীন বিচার বিভাগ জনগণের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকে।

৬. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। রাষ্ট্রপতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভা শাসন ক্ষমতা পরিচালনার জন্য সাধারণত আইনসভার নিকট দায়ী নন। শাসন বিভাগ আইনসভা ভেঙে দেওয়ার অধিকার রাখে না। আইনসভা শাসন বিভাগ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

ঘ. সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এর পার্থক্য

সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পার্থক্য আলোচনা করা হলো-

১. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। এখানে রাষ্ট্রপ্রধান আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন। আর অপরজন সরকার পরিচালনা করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান । কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে যিনি রাষ্ট্রপ্রধান, তিনিই সরকারপ্রধান। রাষ্ট্রপ্রধান প্রকৃত শাসক ।

২. মন্ত্রীদের ক্ষমতা ও মর্যাদার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণ একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ মন্ত্রিগণ প্রধানমন্ত্রীর সহকর্মী এবং বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মন্ত্রিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির উপর তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকেন।

৩. আইনসভার সার্বভৌমত্ব সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের আইনসভা সার্বভৌম। আইনসভা ইচ্ছা করলে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে সরকারকে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের আইনসভার সে ক্ষমতা নেই । কিন্তু আইনসভা সংবিধান নির্দিষ্ট পথে বিশেষ অভিযোগ উত্থাপন ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও অপসারণ করতে পারে না। রাষ্ট্রপতির হাতে ‘ভেটো’ ক্ষমতা থাকায় আইন পরিষদের সার্বভৌম ক্ষমতা আরও সংকুচিত হয়েছে ।

৪. মন্ত্রীদের আইনসভার সদস্য হওয়া সংসদীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যগণকে আইনসভার সদস্য হতে হয়। আইনসভার সদস্য নন এমন ব্যক্তি মন্ত্রী হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাকে আইনসভার সদস্য হতে হয় । অপরদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।

৫. আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিসভা শাসিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য। তারা সরাসরি আইন প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী আইনসভার বা সংসদের নেতা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিগণ আইনসভার সদস্য নন। তারা সরাসরি আইন প্রণয়নে কোেনা ভূমিকা রাখতে পারেন না।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ

৬. জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের শাসন বিভাগ অর্থাৎ মন্ত্রিসভা তাদের সকল নীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে শাসন বিভাগ সাধারণত আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।

৭. আইনসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী আইনসভা ভেঙে দেবার জন্য রাষ্ট্রপ্রধানকে পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। তার পরামর্শ রাষ্ট্রপ্রধান উপেক্ষা করেন না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আইনসভা ভেঙে দিতে পারেন না।

৮. জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না। কেননা আইনসভায় এবং মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক বিলম্ব হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

৯. নমনীয়তা সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও সংবিধান নমনীয়। কেননা প্রয়োজনবোধে সংবিধানের ধারা, উপধারা, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত এমনকি সরকারকে যেকোনো সময় আইনসভার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে সংবিধান কিংবা সরকার পরিবর্তন করতে হলে সংবিধানে নির্দিষ্ট বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়।

১০. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে ‘ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ’ নীতি কার্যকর হয় না। কেননা আইন বিভাগের সদস্যগণ শাসন বিভাগেরও সদস্য। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর হতে দেখা যায়। কেননা শাসন বিভাগের সদস্যগণ সাধারণত আইনসভার সদস্য নন।

১১. পদচ্যুতি প্রসঙ্গে : সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে আইনসভা যেকোনো সময় অনাস্থা প্রস্তাব এনে মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুত করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং তার সন্তুষ্টির ওপর ক্ষমতায় থাকেন। এক্ষেত্রে আইনসভা মন্ত্রীদের পদচ্যুত করতে পারেন না। মন্ত্রীরা পদচ্যুত হন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক।

১২. স্থায়িত্বের প্রশ্নে : সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের স্থায়িত্ব কম। কেননা আইন পরিষদের পরিষদের আস্থার ওপর তাদের ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করে। অপরদিকে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের স্থায়ীত্ব অনেক বেশি। নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে একমাত্র অভিশংসন পদ্ধতি ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায় না। অভিশংসন পদ্ধতিও জটিল।

এই ছিল তোমাদের এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ ৭ম সপ্তাহের পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এর বাছাইকরা উত্তর- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর গণতান্ত্রিক- যৌক্তিকতা নিরূপণ।

আরো দেখুন-

প্রতি সপ্তাহে সকল স্তরের অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত সকল তথ্য পাওয়ার জন্য বাংলা নোটিশ এর ফেসবুক পেজটি লাইক এবং ফলো করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং প্লেস্টোর থেকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা নোটিশ ডট কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২০ নভেম্বর, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। বাবা আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং মা রহিমা বেগম। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল আরিয়ান বয়স ৫ বছর। মেয়ে ফাবিহা জান্নাত বয়স ১ বছর। আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া এর শিক্ষাজীবন আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটি ঢাকা থেকে বিপিএড সম্পন্ন করেন। আজিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ লাকসাম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কিছুদিন ক্লাস করার পর। পারিবারিক কারণে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজ এ কিছুদিন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করার পর ভালো না লাগায় পুনরায় ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি নানা রকম সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। কর্মজীবন কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি ২০১৯ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় কুয়েত পারি জমান। কিন্তু সেখানকার কাজের পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় পুনরায় আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে পূর্বের পদে কাজে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি স্বপ্ন গ্রাফিক্স এন্ড নেটওয়ার্ক নামে একটি মাল্টিমিডিয়া এবং প্রিন্টিং প্রেস প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারী সেই সাথে স্বপ্ন ইশকুল নামক একটি কম্পিউটার ট্রেণিং ইনস্টিটিউট এর মালিকানায় আছেন যেখানে তিনি নিজেই ক্লাস পরিচালনা করেন। লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্ম ছাত্র অবস্থায় তিনি লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্মের সাথে জড়িত আছেন। ২০১১ সালে রাইটার্স এসোসিয়েশন এর ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বন্ধু চিরন্তন প্রকাশিত হয়। এর পর তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ