সর্বশেষ আপটেড

“দুই বিঘা জমি” কবিতার পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আশা করছি সবাই ভালো আছো। তোমরা কি ৮ম শ্রেণি ৯ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা এর উত্তর সম্পর্কে ধারণা নিতে চাচ্ছো? কিংবা এসাইনমেন্টটি কিভাবে প্রস্তুত করতে হয় সে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? তাহলে বলবো তোমরা ঠিক ওয়েবসাইটে এসেছো। তোমাদের জন্য আজকের আর্টিকেলটিতে রয়েছে- “দুই বিঘা জমি” কবিতার পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ।

৮ম শ্রেণি ৯ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা

নবম সপ্তাহে অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের তৃতীয় এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছে কবিতাংশ থেকে। শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত দুই বিঘা জমি অধ্যায়ন করার পর এই সপ্তাহের নির্ধারিত কাজটি সম্পন্ন করবে।

২০২১ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্য বইয়ের প্রথম এসাইনমেন্ট কুড়িয়ে পাওয়া মোবাইল প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া ধাপসমূহ দেয়া হয়েছিল প্রথম সপ্তাহে এবং দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শিরোনামে ৫০০ শব্দের মধ্যে একটি প্রবন্ধ রচনা দেয়া হয়েছিল পঞ্চম সপ্তাহে।

নবম সপ্তাহে নবম সপ্তাহে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠ্যবই সাহিত্য কণিকা থেকে দুই বিঘা জমি কবিতা অবলম্বনে তৃতীয় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছে।

শ্রেণীঃ অষ্টম, বিষয়ঃ বাংলা ১ম পত্র (সাহিত্য কণিকা), এসাইনমেন্ট নং-৩

অধ্যায়ঃ ও শিরোনামঃ কবিতা, পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তুঃ ‘দুই বিঘা জমি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর;

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ বর্ণনাধর্মী গদ্যে রূপান্তর

বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি, ঝুঁটিবাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।

দুই বিঘা জমি কবিতাটি উক্ত পঙক্তিগুলো (৪৯-৬২) গদ্যে রূপান্তর করো।

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নির্দেশনাঃ দুই বিঘা জমি কবিতার শব্দার্থ ও টীকা, পাঠ পরিচিতি পড়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

৮ম শ্রেণি ৯ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা এর উত্তর।

শতভাগ মূল্যায়ন রুবিস্কো অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নির্দেশনা অনুসরণ করে অষ্টম শ্রেণির নবম সপ্তাহের বাংলা তৃতীয় এসাইনমেন্ট এর একটি বাছাই করার নমুনা উত্তর দেওয়া হল।

‘দুই বিঘা জমি’ একটি কাহিনি-কবিতা। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কথা ও কাহিনি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। এ কবিতা পাঠ করে শিক্ষার্থীরা শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানতে পারবে। গরিবদের প্রতি তারা সহানুভূতিশীল হবে।

“দুই বিঘা জমি” কবিতার পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

এই কবিতার মাধ্যমে কবি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজে এক শ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। তারা সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়। তারা অর্থ, শক্তি ও দাপটের জোরে অন্যায়কে ন্যায়, ন্যায়কে অন্যায় বলে প্রতিষ্ঠা করে। ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটিতে কবি এদের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।

বিদীর্ণহিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি-

প্রাচীরের কাছে এখনো যে আছে, সেই আমগাছ, এ কি!

বসি তার তলে নয়নের জলে শান্ত হইল ব্যথা,

একে একে মনে উদিল স্মরণে বালক-কালের কথা।

সেই মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাত্রে নাহিকো ঘুম,

অতি ভোরে উঠি তাড়াতাড়ি ছুটি আম কুড়াবার ধুম।

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা পলায়ন-

ভাবিলাম হায় আর কী কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!

সহসা বাতাস ফেলি গেল শ্বাস শাখা দুলাইয়া গাছে,

দুটি পাকা ফল লভিল ভূতল আমার কোলের কাছে।

ভাবিলাম মনে বুঝি এতখনে আমারে চিনিল মাতা,

স্নেহের সে দানে বহু সম্মানে বারেক ঠেকানু মাথা।

হেনকালে হায় যমদূত প্রায় কোথা হতে এল মালী,

ঝুঁটি-বাঁধা উড়ে সপ্তম সুরে পাড়িতে লাগিল গালি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “দুই বিঘা জমি” কবিতার উক্ত পঙক্তিগুলোর গদ্যরুপ নিম্নে বর্ণিত হলোঃ

দরিদ্র কৃষক উপেন অভাব-অনটনে বন্ধক দিয়ে তার প্রায় সব জমি হারিয়েছে। বাকি ছিল মাত্র দুই বিঘা জমি। কিন্তু জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমির দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদারের ক্রোধের শিকার হয় সে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জমিদার সেই জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া হয়ে উপেন পথে বেরিয়ে পড়ে। সাধুর শিষ্য হয়ে সে গ্রাম-গ্রামান্তরে ঘুরে। কিন্তু পৈতৃক ভিটের স্মৃতি সে কিছুতেই ভুলতে পারে না। ১৫-১৬ বছর পরে একদিন সে তার চিরপরিচিত গ্রামে ফিরে আসে তার জমি টানে।

কিন্তু সেখানে তখন দেখে তার জমির কোন চিহ্নই নেই। ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে উপেন ফিরে ফিরে চারদিকে দেখে। হঠাৎ প্রাচীরের কাছে তার সেই দুই বিঘার পুরনো আম গাছ দেখে আশ্চর্য হয়। সেই গাছের তলায় গিয়ে বসে তার ব্যথা শান্ত হয়ে আসে। পুলকিত মনে তার বাল্যকালের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে জ্যৈষ্ঠের ঝড়ে রাতে ঘুম হত না সকালের অপেক্ষায়। অতি ভোরে উঠে এই আম কুড়ানোর ধুম লেগে যেত। স্তব্ধ দুপুরে পাঠশালা-পলায়ন এর কথা মনে পড়ে তার। উপেন ভাবে সেদিনের সেই জীবন আর ফিরে পাওয়ার নয়।

তার এমন আনন্দ-বেদনার স্মৃতির কল্পনার মধ্যে হঠাৎ এক দমকা বাতাস বয়ে গেল। আম গাছের শাখা দুলে উঠলো। আর তাতেই দুটি পাকা আম মাটিতে পড়ল একেবারে উপেনের কাছে। উপেন ভাবলো এত ক্ষণে তার জন্মভূমি মা তাকে চিনতে পেরেছে। তাই সে সন্তানকে স্নেহের দান ওই দুটি ফল তাকে উপহার দিয়েছে। এই ভেবে উপেন মায়ের সেই দান মাথা নত করে গভীর শ্রদ্ধায় গ্রহণ করল। তখন কোথা থেকে মৃত্যুর বার্তাবাহকের মত হাজির হলো ওই বাগানের মালি। তার মাথায় ঝুটি বাঁধা। সে এসেই উপেনকে গালিগালাজ শুরু করলো। সামান্য দুটি ফলের জন্য মালি তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করলো। অথচ সেই ফল উপেন কুড়িয়ে পেয়েছে এবং মায়ের দান ভেবে সাদরে গ্রহণ করেছে।

আরো দেখুন-

এই ছিল তোমাদের ৮ম শ্রেণি ৯ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা এর উত্তর- “দুই বিঘা জমি” কবিতার পঙক্তি গুলোর গদ্যরুপ

তোমাদের অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বাংলা নোটিশ ফেসবুক গ্রুপে দেশের বিভিন্ন নামকরা বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আলোচনা করছে।

তুমিও যোগ দিয়ে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারো- গ্রুপ লিংক- facebook.com/groups/banglanoticeনিয়মিত বাংলা নোটিশ ডট কম ভিজিট করুন এবং ফেসবুক পেইজ Like & Follow করে রাখুন; ইউটিউবে আপডেট পেতে বাংলা নোটিশ ইউটিউব চ্যানেলটি Subscribe করে রাখুন।

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা নোটিশ ডট কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২০ নভেম্বর, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। বাবা আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং মা রহিমা বেগম। এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে আবদুল্লাহ আল আরিয়ান বয়স ৫ বছর। মেয়ে ফাবিহা জান্নাত বয়স ১ বছর। আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া এর শিক্ষাজীবন আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ সালে ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি উত্তরা ইউনিভার্সিটি ঢাকা থেকে বিপিএড সম্পন্ন করেন। আজিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু। এরপর আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ লাকসাম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কিছুদিন ক্লাস করার পর। পারিবারিক কারণে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজ এ কিছুদিন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করার পর ভালো না লাগায় পুনরায় ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি নানা রকম সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। কর্মজীবন কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আজিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি ২০১৯ সালে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় কুয়েত পারি জমান। কিন্তু সেখানকার কাজের পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় পুনরায় আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে পূর্বের পদে কাজে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন। এছাড়াও তিনি স্বপ্ন গ্রাফিক্স এন্ড নেটওয়ার্ক নামে একটি মাল্টিমিডিয়া এবং প্রিন্টিং প্রেস প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারী সেই সাথে স্বপ্ন ইশকুল নামক একটি কম্পিউটার ট্রেণিং ইনস্টিটিউট এর মালিকানায় আছেন যেখানে তিনি নিজেই ক্লাস পরিচালনা করেন। লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্ম ছাত্র অবস্থায় তিনি লেখা-লেখি ও সাহিত্য কর্মের সাথে জড়িত আছেন। ২০১১ সালে রাইটার্স এসোসিয়েশন এর ম্যাগাজিনে তার প্রথম লেখা বন্ধু চিরন্তন প্রকাশিত হয়। এর পর তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ